রিকভারি
ধাপ ৪ / ৫
অপারেশন এখন পেছনে ফেলে এসেছেন। এখন কী স্বাভাবিক?
রিকভারি প্রায় কখনোই সরলরেখায় হয় না — ভালো দিন আর ধীর দিন দুটোই এর অংশ। এই সহজ ভাষার উত্তরগুলোতে থাকছে বেশিরভাগ রোগী কেমন অনুভব করেন, কিছুদিন কী এড়িয়ে চলবেন, এবং কোন লক্ষণগুলো দেখলে আপনার টিমকে ফোন করা উচিত।
প্রকাশিত · আপডেট
রিকভারি
সেরে ওঠার সময় রোগীরা যে প্রশ্ন করেন
আবার নিজের মতো অনুভব করতে কতদিন লাগবে?
এটা আপনার ব্যক্তিগত অবস্থার চেয়ে বেশি নির্ভর করে অপারেশনের ধরনের উপর। কিহোল বা রোবোটিক সার্জারির পর, অনেক নারী এক-দুই সপ্তাহের মধ্যেই উঠে বাড়ির হালকা কাজ করতে পারেন, এবং প্রায় চার থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে প্রায় স্বাভাবিক বোধ করতে শুরু করেন[2]। ওপেন সার্জারিতে পথটা একটু ধীর — সাধারণত ছয় থেকে আট সপ্তাহ, কখনো কখনো তার চেয়েও বেশি[1]। ক্লান্তিই সাধারণত সবচেয়ে শেষে কাটে, এবং তারপর কেমোথেরাপি বা রেডিয়েশন শুরু হলে তা আরও দীর্ঘ হতে পারে। রিকভারি কখনোই একটা সরলরেখায় চলে না — কোনো দিন মনে হবে সত্যিকারের অগ্রগতি হচ্ছে, কোনো দিন হবে না, আর দুটোই সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। যা সত্যিই সাহায্য করে তা হলো প্রতিদিন একটু একটু বেশি হাঁটা[1]। বিশ্রামও জরুরি, কিন্তু সারাদিন বিছানায় শুয়ে থাকা আসলে সুস্থ হয়ে ওঠার গতি বাড়ায় না, বরং কমিয়ে দেয়।
এর মেডিক্যাল পরিভাষা হলো —
রোগীদের দ্রুত খাওয়াদাওয়া ও হাঁটাচলা শুরু করিয়ে সেরে ওঠার গতি বাড়ানোর একটা পদ্ধতিকে বলা হয় ERAS (Enhanced Recovery After Surgery)। দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তিকে বলে ফ্যাটিগ (fatigue)।
কিছুদিন কী কী করা যাবে না?
আপনার সার্জন আপনার নির্দিষ্ট ক্ষেত্রের জন্য সঠিক সীমা বলে দেবেন, তবে একটা সাধারণ নিয়ম হিসেবে, পেটের অপারেশনের পর প্রথম প্রায় ছয় সপ্তাহ বেশিরভাগ নারীকে ভারী জিনিস তোলা এড়িয়ে চলতে বলা হয়[1] — প্রায় ৪-৫ কেজির বেশি কিছু নয়, যার মধ্যে একটা ভর্তি বালতি জলও পড়ে যায় — সেইসাথে কঠোর ব্যায়াম ও ভারী গৃহস্থালির কাজও। যতক্ষণ না ব্যথা ছাড়া হঠাৎ ব্রেক কষতে পারছেন এবং শক্তিশালী ব্যথানাশক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, ততক্ষণ গাড়ি চালানো বন্ধ রাখতে হবে[1]। এই সময়ে যোনিপথে কিছু প্রবেশ করানো উচিত নয় — যৌনমিলন, ট্যাম্পন বা ডুশিং নয় — কারণ যোনিপথের উপরের অংশ তখনও ভেতর থেকে সেরে উঠছে; হিস্টেরেক্টমির পর এতে সাধারণত অন্তত ছয় সপ্তাহ লাগে[1], অপারেশনের ধরন অনুযায়ী কখনো কখনো তার চেয়েও বেশি। স্নান করা ঠিক আছে, কিন্তু ক্ষত সম্পূর্ণভাবে না শুকানো পর্যন্ত বাথটাবে গা ভেজানো ও সাঁতার এড়িয়ে চলুন[1]। হাঁটাচলা চালিয়ে যান, আর টয়লেটে জোর করা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন — পর্যাপ্ত জল ও ফাইবার এতে সাহায্য করে।
এর মেডিক্যাল পরিভাষা হলো —
যে ফলো-আপ ভিজিটে আপনার সার্জন আপনার ক্ষত ও সুস্থতা পরীক্ষা করে স্বাভাবিক কাজকর্মে ফেরার অনুমতি দেন, তাকে বলা হয় পোস্ট-অপারেটিভ রিভিউ।
কবে আমি কাজে ফিরতে পারব?
এটা অপারেশনের মতোই আপনার কাজের ধরনের উপরেও নির্ভর করে।[3] ডেস্কের কাজ, বা বাড়ি থেকে করা যায় এমন কাজের ক্ষেত্রে, অনেক নারী কিহোল সার্জারির পর প্রায় চার থেকে ছয় সপ্তাহে, আর ওপেন সার্জারির পর ছয় থেকে আট সপ্তাহ বা তার বেশি সময়ে কাজে ফেরেন। আপনার কাজে যদি ভারী জিনিস তোলা, দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা, বা দীর্ঘ যাতায়াত থাকে, তাহলে আরও বেশি সময় লাগতে পারে — প্রায়ই আট থেকে বারো সপ্তাহ। আর অপারেশনের পর কেমোথেরাপি বা রেডিয়েশন থাকলে, আপনার এনার্জি আরও কমে যাবে, যে কারণে অনেক নারী ধীরে ধীরে কাজে ফেরেন — প্রথমে ছোট দিনের কাজ, বা সপ্তাহে কম দিন[3], পুরোপুরি ফুল-টাইমে ঝাঁপ না দিয়ে। আপনার কাজে ফেরার উপযুক্ত হওয়ার তারিখের লিখিত নিশ্চয়তা ডাক্তারের কাছে চাওয়া ভালো; নিয়োগকর্তা ও বীমা সংস্থা প্রায়ই তা লিখিতভাবে চায়।
এর মেডিক্যাল পরিভাষা হলো —
কাজে ফেরার অনুমতির নোটটিকে বলা হয় ফিটনেস-টু-ওয়ার্ক সার্টিফিকেট। কাজ থেকে দূরে থাকার সময়কে সাধারণত বলা হয় মেডিক্যাল লিভ বা সিক লিভ।
কী স্বাভাবিক — আর কখন ফোন করা উচিত?
সাধারণত চিন্তার কিছু নেই: ক্ষতের কাছে ব্যথা ও কালশিটে দাগ, ক্লান্তি, হালকা পেট ফাঁপা, বায়ু নির্গত হওয়া, কিছুদিনের জন্য কম ক্ষুধা, এবং হিস্টেরেক্টমির পর কয়েক সপ্তাহ ধরে হালকা স্পটিং বা গোলাপি-বাদামি স্রাব[1]। একই দিনে আপনার টিমকে ফোন করুন, বা হাসপাতালে যান, যদি লক্ষ্য করেন[1]: তাপমাত্রা ৩৮°সে (১০০.৪°ফা) বা তার বেশি; ক্ষত লাল, গরম, ফোলা হয়ে গেছে বা তা থেকে তরল বেরোতে শুরু করেছে বা খুলে যাচ্ছে; ভারী যোনিপথে রক্তক্ষরণ — এক ঘণ্টার মধ্যে প্যাড পুরোপুরি ভিজে যাওয়া — অথবা দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব; পেটে তীব্র বা ক্রমবর্ধমান ব্যথা; বারবার বমি, বা জল/তরল পেটে রাখতে না পারা; জ্বরের সাথে প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া, বা খুব কম প্রস্রাব হওয়া; অথবা হঠাৎ পায়ের ডিমের অংশ ফুলে যাওয়া, লাল হয়ে যাওয়া ও ব্যথা হওয়া[1]। হঠাৎ শ্বাসকষ্ট বা বুকে ব্যথা হলে সাথে সাথেই জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন — অপেক্ষা করবেন না, কাছের হাসপাতালে চলে যান। কোনো কিছু গুরুত্বপূর্ণ কিনা তা নিয়ে সন্দেহ হলে, তাও ফোন করুন। জিজ্ঞাসা করাই সবসময় ভালো।
এর মেডিক্যাল পরিভাষা হলো —
ক্ষতের সংক্রমণকে বলা হয় সার্জিক্যাল সাইট ইনফেকশন। পায়ে রক্ত জমাট বাঁধাকে বলা হয় ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস (DVT); জমাট বাঁধা রক্ত ফুসফুসে পৌঁছালে তাকে বলে পালমোনারি এমবোলিজম।
রিপোর্ট কবে পাব, এবং তারপর কী হবে?
অপারেশনের সময় অপসারিত টিস্যু একজন প্যাথলজিস্টের কাছে যায়, যিনি তা মাইক্রোস্কোপের নিচে বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করেন — এই রিপোর্ট তৈরি হতে সাধারণত এক সপ্তাহ থেকে দশ দিন সময় লাগে, অতিরিক্ত পরীক্ষার প্রয়োজন হলে মাঝে মাঝে তার চেয়েও বেশি। এটা আপনার টিমকে জানায় ক্যান্সারের সঠিক ধরন, তা কতদূর ছড়িয়েছে, অপসারিত টিস্যুর প্রান্ত ক্যান্সারমুক্ত কিনা, এবং কোনো লিম্ফ নোড আক্রান্ত হয়েছে কিনা[3]। এসবের ভিত্তিতেই আপনার ডাক্তার ঠিক করেন আপনার আরও চিকিৎসা দরকার কিনা, যেমন কেমোথেরাপি বা রেডিয়েশন, নাকি এখান থেকে শুধু নিয়মিত চেক-আপই যথেষ্ট। এই রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করাটা পুরো অভিজ্ঞতার সবচেয়ে কঠিন অংশগুলোর একটি, এবং সেই অপেক্ষার সময় উদ্বিগ্ন বোধ করা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক — বেশিরভাগ নারী এমনটাই বলেন। ছুটি হওয়ার আগে, রিপোর্ট ঠিক কবে তৈরি হবে এবং কে আপনাকে তা বুঝিয়ে দেবেন তা জিজ্ঞাসা করা ভালো, এবং সেই অ্যাপয়েন্টমেন্টে পরিবারের কাউকে সাথে রাখার চেষ্টা করুন।
এর মেডিক্যাল পরিভাষা হলো —
একে বলা হয় হিস্টোপ্যাথলজি রিপোর্ট। অপসারিত টিস্যুর প্রান্তকে বলা হয় মার্জিন; ক্লিয়ার মার্জিন মানে প্রান্তে কোনো ক্যান্সার পাওয়া যায়নি। অপারেশনের পরে নির্ধারিত চূড়ান্ত স্টেজকে বলা হয় প্যাথোলজিক্যাল স্টেজ।
আমার কী খাওয়া উচিত, আর কতটা সক্রিয় থাকা উচিত?
মেনে চলার মতো আলাদা কোনো "ক্যান্সার ডায়েট" নেই। যা আসলে সাহায্য করে তা হলো নিয়মিত, ছোট ছোট খাবার যাতে সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য পর্যাপ্ত প্রোটিন থাকে[1][3] — ডাল, ডিম, মাছ, মুরগি, পনির, দই সবই ভালো কাজ করে — সেইসাথে প্রচুর জল। ফাইবার ও তরল একসাথে কোষ্ঠকাঠিন্য দূরে রাখতে সাহায্য করে, যা অপারেশনের পরে এবং কিছু ব্যথানাশকের কারণে সাধারণ একটা সমস্যা। ক্ষুধা আগের মতো না থাকলে, বড় খাবার জোর করে খাওয়ার চেয়ে সারাদিন ধরে ছোট ছোট স্ন্যাক্স খাওয়া বেশি কার্যকর হয়। কোনো নির্দিষ্ট খাবার ক্যান্সার ফিরিয়ে আনবে না, এবং কোনো খাবার বা ভেষজ প্রতিকারও এটা সারিয়ে তুলবে না — তবে কোনো সাপ্লিমেন্ট শুরু করার আগে দয়া করে আপনার ডাক্তারের সাথে যাচাই করে নিন, কারণ কিছু সাপ্লিমেন্ট কেমোথেরাপিতে বাধা দিতে পারে। সক্রিয়তার ক্ষেত্রে: প্রতিদিন একটু হাঁটুন, ধীরে ধীরে দূরত্ব বাড়ান[1], এবং হালকা শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়ামও সাহায্য করে।
এর মেডিক্যাল পরিভাষা হলো —
সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য পর্যাপ্ত প্রোটিন ও ক্যালোরি পাওয়াকে বলা হয় নিউট্রিশনাল সাপোর্ট-এর অংশ। এতে দিকনির্দেশনা দেওয়া বিশেষজ্ঞকে বলা হয় ক্লিনিক্যাল ডায়েটিশিয়ান।
অপারেশন শেষ হওয়ার পরেও কেন এত মনখারাপ বা উদ্বিগ্ন লাগছে?
বেশিরভাগ মানুষ যা ভাবেন তার চেয়ে এটা অনেক বেশি সাধারণ। অনেক নারী রিকভারির সময় কান্না পাওয়া, খিটখিটে মেজাজ, উদাসীন বা উদ্বিগ্ন বোধ করেন — এমনকি অপারেশন ভালোভাবে হলেও। এর একটা অংশ শুধু ক্লান্তি, ব্যথা এবং ঘুমের ব্যাঘাতের কারণে; কিছুটা রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা ও উদ্বেগের কারণে; আর দুটো ডিম্বাশয় অপসারণ করা হয়ে থাকলে, হঠাৎ হরমোনের পরিবর্তনও সত্যিই মেজাজে প্রভাব ফেলতে পারে[4]। এর কোনোটার মানেই এই নয় যে আপনি দুর্বল, বা অপারেশন থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য কৃতজ্ঞ নন। যা সাহায্য করে: বিশ্বস্ত কারো সাথে কথা বলা, দিনের আলোয় একটু হাঁটা, কোনো ধরনের দৈনন্দিন রুটিন বজায় রাখা, এবং সাধারণত নিজে যেসব কাজ করেন সেগুলোতে অন্যদের সাহায্য নেওয়া। এটা সরাসরি আপনার ডাক্তারকে বলাও ভালো — জিজ্ঞাসা করুন কাউন্সেলিং বা সাপোর্ট পাওয়া যায় কিনা। আর যদি মনখারাপ ভারী মনে হয়, কয়েক সপ্তাহ পরেও না কমে, বা মনে হয় যে বেঁচে থাকা অর্থহীন, তাহলে দয়া করে সাথে সাথেই আপনার ডাক্তার বা পরিবারের কাউকে জানান।
এর মেডিক্যাল পরিভাষা হলো —
ক্যান্সার চিকিৎসার সময় মানসিক সুস্থতায় সাহায্যকে বলা হয় সাইকো-অনকোলজি বা সাইকোসোশ্যাল সাপোর্ট।
এই উত্তরগুলো সাধারণভাবে প্রযোজ্য, ডা. ব্যানার্জী যেসব ক্যান্সারের চিকিৎসা করেন তার সবক্ষেত্রেই। আপনার নির্দিষ্ট ডায়াগনোসিস সম্পর্কিত বিস্তারিত জানতে:
এই তথ্য কোথা থেকে আসে?
নিচের সংখ্যাযুক্ত সূত্রগুলো উপরের উত্তরগুলোর সাধারণ তথ্যকে সমর্থন করে। যে বিবৃতিতে সংখ্যা নেই, তা কোনো একটি প্রকাশিত সূত্রের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয়। আপনার ডায়াগনোসিসে কোনটি প্রযোজ্য, তা আপনার নিজের চিকিৎসক দল বলতে পারবেন। সূত্রগুলোর শিরোনাম মূল ইংরেজিতেই রাখা হয়েছে।